সর্বশেষ কর্মঘন্টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণে কাজ করলেন ড. আসকারী

সাকিব আহমেদ রবিঃ

সর্বশেষ কর্মঘন্টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য কাজ করে গেলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। আগামীকাল (২০ আগস্ট) উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাঁর । আজ (১৯ আগস্ট) ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলানতান (ইউএমকে) কর্তৃক আয়োজিত ” দি নিউ নরমাল হায়ার এডুকেশন এমিড প্যানডেমিক কোভিড-১৯” শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার সিরিজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে শেষ কর্মদিবস শেষ করেন অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

ইতোমধ্যে ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর মেয়াদকালে সেশনজট মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। মনোরম শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারীর হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। প্রায় পনের হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অর্ধশত বিদেশী শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত আছে। যাদের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে গবেষণার প্রতি। উৎসাহিত করা হচ্ছে প্রজেক্টভিত্তিক গবেষণায়। সকল অনুষদ হতে প্রকাশিত হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা জার্নাল। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মশালা। সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে বহির্বিশ্বের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। কোর্স কারিকুলাম গবেষণায় কোলাবোরেশান রিসার্চের জন্য এমওই হয়েছে ৯টি দেশের সাথে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, বিজ্ঞান-মনস্ক, প্রগতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে যে মানুষটি চেষ্টার কোন ত্রুটি না রাখার অঙ্গীকার করেছেন সেই রাশিদ আসকারী ১৯৬৫ সালের ১লা জুন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার আসকারপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বৃটিশ আমলে এমএবিএড এবং ইংরেজী বিষয়ে হাইস্কুল শিক্ষক। শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বের অধিকারী প্রফেসর আসকারী ১৯৮০ সালেরাজশাহী র্বোড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি উর্ত্তীণ হন। ১৯৮২ সালে একই র্বোড থেকে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগ সহ সমগ্র বোর্ডে ৫ম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগ থেকে অর্নাস ও ১৮৬ সালে মার্স্টাস পাশ করেন। তিনি ভারতের পুণা ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রিঅর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষ হতেই ড. আসকারী ১৯৯০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।

একই বিভাগে ১৯৯৩ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০০ সালে সহযোগী অধ্যাপক ও ২০০৫ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের কিং খালিদ ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর পদে ৫ বছর কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রফেসর আসকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে মোট তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ মেয়াদে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯-২০০০ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং একই বছর তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব হিশেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর প্রকাশিত ইংরেজী-বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা ৮; তন্মধ্যে একটি সম্পাদিত। তার লিখিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ২৫। আর্ন্তজাতিক প্রকাশনা ১২টি। তার রচিত ইংরেজী ছোট গল্প ওহায়িও স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউএসএ থেকে প্রকাশিত জার্নাল অব দি পোস্ট কলোনিয়াল কালচারস এন্ড সোসাইটিস, ভারতের কনটেম্পরারি লিটারারি রিভিউ (সিএলআরঅই) থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির আজীবন সদস্য। এছাড়াও জানা অজানা অনেক সফলতার পালক যুক্ত হয়েছে ড. রাশিদ আসকারীর ঝুলিতে। সম্প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখায় প্রফেসর ড. রশীদ আসকারী অর্জন করেছেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক ২০১৯’।