মার্চেন্ডাইজার পেশা । ক্যারিয়ার ক্যাটালগ

মার্চেন্ডাইজার পেশা নিয়ে আজকের আলোচনা। মার্চেন্ডাইজার বা মার্চেন্ডাইজিং এমন একটি শব্দ, যা একটি ব্যবসার পণ্য বাজারজাত করার সমস্ত কাজকে কভার করে। এই সাথে বিজ্ঞাপন প্রচার, মূল্য প্রচার, বিশেষ ইভেন্ট এবং এই ধরনের সবকিছু জড়িত। বিপণন পেশাদাররা কীভাবে প্রচারমূলক কাজ করে, ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করে এবং গ্রাহকদের আগ্রহকে প্রভাবিত করে, সে সম্পর্কে জানতে মার্চেন্ডাইজিং পড়া বা শেখা হয়। এর পাশাপাশি কোম্পানি তার পণ্য এবং পরিষেবা কিভাবে বিক্রি করবে সেটিও মার্চেন্ডাইজিং এর মধ্যেই পড়ে। মার্চেন্ডাইজিং কৌশল হল নির্দিষ্ট কৌশল যা বিপণন পেশাদাররা গ্রাহকদের একটি পণ্য কেনার জন্য সন্তুষ্ট করতে ব্যবহার করে। এখানে কিছু উদাহরন:

মিলের অনুভূতি তৈরি করতে একই পণ্যগুলিকে একত্রে গোষ্ঠীবদ্ধ করুন
তাক, দোকানের জানালা বা বিলবোর্ডের জন্য চিহ্ন তৈরি করা
ডেমো বা নমুনা পণ্য প্রদান
মাসিক, সাপ্তাহিক বা মৌসুমী প্রচারমূলক আইটেমগুলিতে ফোকাস করা
ভিডিও বা ছবির ফর্ম্যাটে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন তৈরি করা
প্রচারমূলক আইটেমগুলির সাথে সম্পূর্ণরূপে স্টক করা তাকগুলির সাথে চাহিদা চিত্রিত করা
আকর্ষণীয় পণ্য প্যাকেজিং উন্নয়নশীল
গ্রাহকদের জন্য একটি পরিষ্কার, নিরাপদ দোকান পরিবেশ বজায় রাখা
ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতার অংশ হিসাবে গ্রাহক পরিষেবাতে ফোকাস করা
এই কৌশলগুলি কোম্পানিকে গ্রাহকদের কাছে আবেদন করতে সাহায্য করে এবং তাদের কিছু কেনার জন্য উত্সাহিত করে জরুরিতার অনুভূতি তৈরি করে। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইতিবাচকতা এবং পণ্য ও পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।

মার্চেন্ডাইজিং (Merchandising) এর আভিধানিক অর্থ পণ্য কেনা বেচা করা। অর্থাৎ আয়ের উদ্দেশ্য কোন পণ্য কিনে তা আবার বিক্রি করাকে মার্চেন্ডাইজিং বলে। আর এ কাজটি যে করে থাকে তাকে মার্চেন্ডাইজার বলে। বাংলাদেশে মূলত রপ্তানিমুখি পোশাক শিল্পে মার্চেন্ডাইজারদের কাজ। মার্চেন্ডাইজাররা সাধারণত বায়িং হাউজ বা গার্মেন্টস এ কাজ করেন। গার্মেন্টস সামগ্রীর অর্ডার থেকে শুরু করে বিদেশে চালান দেওয়া পর্যন্ত সকল ক্রয়- বিক্রয় এর হিসাব নিকাশ একজন মার্চেন্ডাইজার করে থাকেন।

একজন মার্চেন্ডাইজার কোন ধরনের শিল্পে কাজ করেন?
বাংলাদেশে মূলত টেক্সটাইল শিল্পে মার্চেন্ডাইজাররা কাজ করেন। রেডিমেড গার্মেন্টস, নিটিং , ফ্যাব্রিকসহ সকল ধরনের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে মার্চেন্ডাইজার থাকে। এছাড়া পোশাক রপ্তানি প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষ বায়িং হাউজ মার্চেন্ডাইজারদের মূল কর্মক্ষেত্র।

একজন মার্চেন্ডাইজার কী ধরনের কাজ করেন?
বায়িং হাউসে কাজের পরিধিটা অনেক বড়। বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজাররা বিদেশি বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করে পণ্য বিক্রির প্রস্তাব দেন এবং বায়ার রাজি হলে কোম্পানির প্রোডাক্টের স্যাম্পল দেখানো হয়। প্রোডাক্ট তৈরিতে কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হবে এবং এর মান কতটুকু টেকসই হবে, প্রোডাক্টের সব গুণাগুণ তুলে ধরে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পছন্দ হলে দামের বিষয়টি চূড়ান্ত করে চুক্তিপত্র করা হয়। বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্যাক্টরিতে প্রোডাক্ট তৈরি থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত পুরো কাজ দেখতে হয় মার্চেন্ডাইজারদের। ফ্যাক্টরির মার্চেন্ডাইজাররা বায়িং হাউসের মাধ্যমে পাওয়া কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরি ও পণ্যের মানের বিষয়টি দেখভাল করেন।
একজন মার্চেন্ডাইজারের যোগ্যতা কী?
মার্চেন্ডাইজার হওয়ার জন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতক হলেই চলে। তবে অগ্রাধিকার পায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফ্যাশন/টেক্সটাইলের যেকোনো বিষয় এ এমবিএ ডিগ্রীধারীরা। যেমন সি এন্ড এ বায়ার সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার পদের জন্য যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা এপারেল মার্চেন্ডাইজিং/ফাশন ডিজাইনিং এ এমবিএ ডিগ্রীধারীদের অগ্রাধিকার দিবে।

একজন মার্চেন্ডাইজারের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
• ইংরেজী ভাষায় দক্ষ হতে হবে;
• টেক্সটাইল শিল্পের সকল প্রক্রিয়া ও কাঁচামালের দাম নিয়ে ধারণা রাখতে হবে;
• আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট শিপিং, কাস্টমস, বায়িং পলিসি, ব্যাংক এর কাজে দক্ষ হতে হবে;
• অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও পরিকল্পনায় দক্ষ হতে হবে;
একজন মার্চেন্ডাইজার পড়াশোনা কোথায় করবেন?
স্নাতক শেষে মার্চেন্ডাইজিংয়ের ওপর কোর্স করা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদি কোর্স আছে। যেখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হলো :
• বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি);
• ম্যার্চেন্ডাইজারস ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এমআইএফটি);
• বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন টেকনোলজি;
• ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি);
• শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি।
প্রতিটি গার্মেন্টেস এ ৪-৮ জন করে মার্চেন্ডাইজার প্রয়োজন। এছাড়া গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির জন্য প্রায় ২ হাজার বায়িং হাউজ গড়ে উঠেছে। একটি বায়িং হাউজের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কাজটি করে থাকেন একজন মার্চেন্ডাইজার। প্রতিটি বায়িং হাউজে গড়ে ৪ জন করে মার্চেন্ডাইজার কাজ করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে রেডিমেড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি আর বায়িং হাউজ এর সংখ্যা বাড়ছে।

একজন মার্চেন্ডাইজার ট্রেইনি হিসেবে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন পান। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে বাড়ে বেতনও। চার থেকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মার্চেন্ডাইজারের বেতন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার বা মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। এ পদের জন্য প্রতিষ্ঠানভেদে ৬-১০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতাও দেওয়া হয়। মার্চেন্ডাইজার ম্যানেজার পদের জন্য প্রতিষ্ঠানভেদে ৬-১০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। বায়ারদের সঙ্গে কথা বলে কে কত সহজে কাজটি আদায় করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি। মূলধন আর ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় দক্ষ হলে নিজের বায়িং হাউজ খুলে ব্যবসা শুরু করার সুযোগও আছে এই সেক্টরে।

 

আরও দেখুন: