রাবি ‘বি’ ইউনিটের

ক্লাস না করেও অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় সুযোগ ফোকলোর বিভাগে

নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সারাবছর ক্লাস না করা অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এছাড়া আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষকদের নিকট বাড়তি সমর্থন পেতে বিভাগের বিএনপিপন্থী সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ অনুমোদন প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে নিয়মিত ক্লাস করে বিভাগের এমন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে- চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ক্লাসে অবশ্যই ন্যুনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। তবে কোনো কারণবশত উপস্থিতি ৬০-৭৫ শতাংশের মধ্যে হলে জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হলে কোনোভাবেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব অনুযায়ী প্রথম বর্ষের ৭৫জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৪জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১৪জন, দ্বিতীয় বর্ষের ৫৪জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ২০জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১০জন, তৃতীয় বর্ষে ৫৫জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ৯জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১২জন, চতুর্থ বর্ষের ৫০জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৬জন ও ডিস-কলেজিয়েট ৮জন এবং মাস্টার্সের ৫৬ জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৬জন ও ডিস-কলেজিয়েট হয় ১২জন। সবমিলিয়ে দেখা যায় বিভাগের মোট ২৯০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বছর নন-কলেজিয়েট হয়েছে প্রায় ২৬শতাংশ এবং ডিস-কয়েজিয়েট হয়েছে প্রায় ২৫শতাংশ। এসব ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২জন সারাবছরে ১০শতাংশ ক্লাসও করেন নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর অনার্সের চারটি বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ফরম-ফিল-আপের পূর্বে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়টি হিসেব করে দেখা যায় ডিস-কলেজিয়েটদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রলীগ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা বিভাগের আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন শিক্ষক সভাপতিকে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদন দিতে বলেন। পরে একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে এ নিয়ে কথা হলে উপস্থিত ১৩জন শিক্ষকের মধ্যে চারজন শিক্ষক উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া যেতে পারে উল্লেখ করে ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে ঘোর বিরোধীতা করেন। কিন্তু মিটিংয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতির ভিত্তিতে উপস্থিতি ১ শতাংশেরও কম রয়েছে এমন শিক্ষার্থীসহ সব ডিস-কলেজিয়েটদের পরীক্ষা দেওয়ার হয়।

এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন একটি নিয়ম আছে তেমনি বিভাগের একাডেমিক কমিটিরও একটা নিজস্ব ক্ষমতা আছে। তাই ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়টি একাডেমিক কমিটিকে জানাই। আর একাডেমিক কমিটির সভায় অধিকাংশ শিক্ষকের সমর্থনে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন সভাপতি হিসেবে আমি তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কোনো বিভাগ চাইলে ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু ফোকলোর বিভাগের বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছে কিনা সেটি নথি দেখে বলতে হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক